চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অটুট থাকবে সব পরিস্থিতিতেই: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

BD REPORT
বিডি রিপোর্ট 10 Sep 2026 06:09 am
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অটুট থাকবে সব পরিস্থিতিতেই: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (৩ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত বন্ধু, উত্তম প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ঢাকার পাশে থাকবে বেইজিং।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দিকনির্দেশনা উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীন অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) কম্পারেটিভ গভর্নেন্স ফোরাম ২০২৬-এর আওতায় এক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিআইআইএসএস ও চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক চেন চিমিন ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান।

জটিল একটি সময় পার করার সময় বাংলাদেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একক শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা দুই দেশের মধ্যে যাকে "স্বর্ণালি পঞ্চাশ বছর" বলা হচ্ছে, সেই অংশীদারিত্বের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ ও চীন সম্মত হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং তা আরও উচ্চ পর্যায়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন ইয়াও ওয়েন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকে অত্যন্ত সফল ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে বর্ণনা করেন রাষ্ট্রদূত। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করেছে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে বলে তিনি জানান।

চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অর্থ হলো, পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন স্বার্থ ও সংহতির ভিত্তিতে বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামো ছাড়িয়ে সম্পর্ক নতুন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছানো, বলেন রাষ্ট্রদূত। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়কে তুলে ধরেন তিনি।

ফোরামে অংশগ্রহণকারীদের চীনের আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপযোগী উন্নয়ন কৌশল খুঁজে বের করার আহ্বান জানান ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, অর্জিত শিক্ষা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে এবং জাতীয় শাসনব্যবস্থা, দারিদ্র্য বিমোচন ও ডিজিটাল প্রশাসনের মতো ক্ষেত্রে চীনের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

ফোরাম থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের নতুন অংশীদার হয়ে ওঠার জন্যও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। বক্তব্যের শেষে তিনি কম্পারেটিভ গভর্নেন্স ফোরাম ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন।