বাংলাদেশি নয়, চীনা চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রচারণায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সরকারের নিজস্ব উন্নয়ন নিয়ে তেমন প্রচারণা দেখা না গেলেও, চীনে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নিয়ে সরব হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে ও ব্যয়ে ২৩ সদস্যের একটি দল নিয়ে ৬ আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত কুনমিং সফরে যান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ। সফর চলাকালীন প্রেস উইং থেকে একের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চীনের হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা ও সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়।
প্রেস উইংয়ের শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানসিক প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসা এখন চীনের হাসপাতালে সহজলভ্য, বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের কুনমিং টংরেন হাসপাতাল এই ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। হাসপাতালটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শেন লিং জানান, সম্প্রতি এক বাংলাদেশি পরিবার তাদের কিশোর সন্তানের চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন এবং সাশ্রয়ী খরচে সন্তোষজনক সেবা পেয়েছেন। হাসপাতালটি দোভাষীসহ প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ কর্মী সরবরাহ করে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী নাভিদ মুস্তাক বলেন, 'চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রচারণা করা প্রেস উইংয়ের কাজ নয়। কোথায় চিকিৎসা ভালো, কার জন্য উপযুক্ত—এ সিদ্ধান্ত চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞদের দেওয়া উচিত, সরকারি প্রচারণা নয়।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল আলম চৌধুরীর মতে, 'সরকারের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশি ব্যবস্থার প্রশংসা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না। এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়।'
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান খসরু বলেন, 'এই ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বার্থবিরোধী। বাংলাদেশের চিকিৎসাপ্রার্থীকে বিদেশমুখী না করে দেশের ভেতরেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অর্থ ও আস্থা উভয়ই দেশের মধ্যে থাকে।'