গ্যাস মজুদ কমছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনে স্থবিরতা—বড় সংকটের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

BD REPORT
Admin User 13 Apr 2026 06:04 pm
গ্যাস মজুদ কমছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনে স্থবিরতা—বড় সংকটের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

দেশের জ্বালানি খাতে প্রতিদিনই গ্যাসের মজুদ কমছে, অথচ বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়ছে না—এমন চিত্র তুলে ধরে বড় ধরনের জ্বালানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পরিকল্পনার অভাব, সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং নীতি অস্থিরতার কারণে আগামী এক দশকে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

রবিবার (১০ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫’ শীর্ষক সেমিনারে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ম. তামিম বলেন, সরকার জ্বালানি খাতের বকেয়া শোধ করলেও ভর্তুকি কমাতে পারেনি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।

পেট্রোবাংলার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে, যেখানে চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৫ সালে ঘাটতি বেড়ে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। তার আশঙ্কা, পেট্রোবাংলা ২০৩৫ সালেও গ্যাস মজুদ ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট ধরে রেখেছে—যার মানে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা তারা দেখছে না। 'যেখানে দেশের জ্বালানির ৭০ শতাংশ গ্যাসনির্ভর, সেখানে এ ঘাটতি ভয়াবহ,' মন্তব্য করেন তামিম।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তিনি জানান, উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও সঞ্চালন সক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হচ্ছে, অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ২৬ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। সঞ্চালন অবকাঠামো দ্রুত উন্নত না হলে সমস্যা ভয়াবহ আকার নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এজাজ হোসেন বলেন, 'এখন প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম ৩০ টাকা, কিন্তু একসময় এমন আসবে যখন ১০০ টাকা খরচ করেও এক ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে না।' তার মতে, পাইপলাইনের অবস্থা ভঙ্গুর বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করাও সম্ভব হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে আরও দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় কাজের চাপ বেড়েছে, ফলে অগ্রগতি হয়নি। গত এক বছরে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, 'গ্যাস না থাকায় উৎপাদন বন্ধ, আবার ব্যাংকের উচ্চ সুদের চাপে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।'

একইভাবে, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, 'দেশে নীতির স্থায়িত্ব নেই—এক সময় একভাবে, আরেক সময় অন্যভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়।' তিনি পাঁচ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে পারেন।

Tags: