নাফ নদীর মোহনা থেকে ১৭ ডিঙ্গি নৌকাসহ ২০ জেলে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম এ তথ্য জানান।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- মো. হাসিম (৩০), মো. হোছেন (২০), মহি উদ্দিন (২২), এনায়েত উল্লাহ (৩২), আব্দুল শুক্কুর (৩৫), নুর হাফেজ (২২), মো. ইয়াছিন (৩০), আবদু রহিম (২৪), হাসান আলি (৩৩), ওসমান গনি (৩০), শাহ আলম (২২), আসমত উল্লাহ (২০), আব্দুল শুক্কুর (২৬), আবুল হোছেন (১৭), আয়ুব খান (৩০), নুর হোছন (২২), মো. বেলাল (১৮), সলিম (২৭), আবদুল কাদের (২২) এবং ইন্নামিন (৩৫)। তারা সাবারং ইউনিয়নের শাহ পরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়ার কাছাকাছি এলাকায় দুটি ইঞ্চিন চালিত নৌকা এবং ১৫টি ইঞ্চিনবিহীন নৌকায় করে মাছ ধরতে যান জেলেরা। প্রতিটি নৌকায় দুজন করে জেলে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা বড় ট্রলারে করে এসে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে ধরে নিয়ে যান।
ওই এলাকার ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার কথা জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী।
টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'স্থানীয় লোকজন ও জেলে পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এ নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।'
এর আগে ৬ অক্টোবর সকালে শাহপরী দ্বীপ জেটিঘাট থেকে ছয়টি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৫৮ জেলে সাগরে মাছ ধরতে যান। পরে ৯ অক্টোবর তাদের ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের নৌবাহিনী।
সেই সময় মিয়ানমার নৌবাহিনীর টহলরত একটি স্পিড বোট থেকে বাংলাদেশের একটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তাতে তিন জেলে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন মারাও যান। পরে জেলেদের ফেরত দেওয়া হয়।
এর আগে ১৫ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইনে অনুপ্রবেশ করার পর আটক দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা বাংলাদেশি ১৬ জেলেকে ফেরত আনে বিজিবি।
নাফ নদীর ওপারে দিনভর বিস্ফোরণের শব্দ:
মিয়ানমারে চলমান সংকট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সীমান্তের ওপারে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে সীমান্তের এপারে। এতে টেকনাফ সীমান্তে কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই শব্দ শোনা গেছে। এ সময় আকাশের অনেক উঁচুতে বিমান থেকে মর্টার শেল বা বোমা বর্ষণ করা হয়।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, সোমবার রাত থেকে গোলাগুলির ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের শব্দ বেড়েছে। দিনে কিছুটা কম শোনা গেলেও রাতে বেশি শোনা গেছে। এতে রাতে শিশুরা ভয় পাচ্ছে।