অর্থনীতি এখন মোটামুটি ব্যালেন্সে: অর্থ উপদেষ্টা

BD REPORT
Admin User 09 Apr 2026 05:04 pm
অর্থনীতি এখন মোটামুটি ব্যালেন্সে: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থনীতি এখন মোটামুটি ব্যালেন্সে চলে এসেছে, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো আছি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স (বিএসআরএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতি এখন মোটামুটি ব্যালেন্সে চলে এসেছে, পুরোপুরি এসেছে এটা দাবি করব না। বিদেশি ঋণের পেমেন্ট হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি কিছু শুরু করে যেতে। আমরা না এলে কি হতো, হয়তো উন্নয়নের গল্প শুনতাম, মূল্যস্থিতি কমেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে ভ্যাট বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইমিডিয়েট ট্যাক্স বাড়ানোর সুযোগ ছিল না, ১২ হাজার কোটি টাকা খুব বেশি টাকা নয়। পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়িয়ে গেছে, কোথায় সেই টাকা কোথায় পাব, কোথা থেকে আসবে। চপ্পলে ভ্যাট থাকলে রিভিউ করব, অনেকে প্রশ্ন করেন বিস্কুটের উপর ভ্যাট কেন, লো লেভেলে হলে অবশ্যই দেখব। দামি বিস্কুট হলে ভ্যাট দিতে হবে। গ্যাপ কিন্তু অনেক বেশি, আমরা একটি সুতার উপর দিয়ে হাটছি, দুই দিকেই বিপদ।

তিনি বলেন, নেট ফরেন রিজার্ভের অন্যতম রেমিটেন্স। মাসে ২ বিলিয়নের বেশি রেমিটেন্স এসেছে, তারাই আমাদের আনসিন হিরো। রেমিটেন্স সব যে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠায় তা নয়, কিছু হুন্ডির মাধ্যমে আসে। এতে ডলার বাইরে থেকে যায়। রেমিটেন্স বৈধ চ্যানেলে না এলে কী হয়, রিজার্ভ কমে যায়, ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। সৌদি আরবের রেমিটেন্সও দুবাই ঘুরে হুডির মাধ্যমে আসে।

বিদেশে কর্মী প্রেরণে বেশি টাকা নেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, এজেন্টরা বেশি টাকা নেয়, নেপাল ও অন্যান্য দেশে এতো টাকা লাগে না। অদক্ষ লোক যাওয়া কমানোর সময় এসেছে, তাদের ট্রেনিং দিয়ে পাঠাতে হবে।

বাধ্য হয়ে অনেকে অবৈধভাবে দেশের বাইরে যায়, এটা আমাদের পলিসি মেকারদের কিছুটা দায় রয়েছে। সৌদিতে বড় একটি অংশ অবৈধ, তাদের বিষয়ে আমাদের মনযোগ কম, তাদেরকে অড্রেস করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রবাসীরা অনেক সময় ফিরে আসে নিস্ব হয়ে। তারা দেশে ফিরে কিছু করতে পারে না। অনেক সময় তারা প্রতারিত হয়ে থাকেন। কিছুটা অংশ যদি বনন্ড বা সঞ্চয় করা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রবাসী স্কিম, সার্বোজনীন পেনশন বিমা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সার্বোজনীন পেনশন বিমায় কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি যুগপোযোগী করা।

রেমিটেন্সে প্রণোদনা আগামী বাজেটে থাকছে কি-না! এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি বাজেটের নয়, সেন্ট্রাল ব্যাংক যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের ভূতপুর্ব প্রমোশন দিয়ে অর্থনীতিকে চাপে ফেলা কতটা যৌক্তিক হয়েছে! এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ব্যয়টা কমানোর, তারা অনেক দিন যাবত বঞ্চিত। ডেইলি ডেইলি রাস্তাঘাট বন্ধ করে আন্দোলন আমরা চাপের মধ্যে আছি।

আইএমএফ এর ঋণের শর্ত প্রসঙ্গে বলেন, সব শর্ত মানতে হবে নাকি, ভ্যাট বাড়াও, বাড়াতে গিয়ে কত রকমের বিপত্তি। আমি যখন গর্ভণর ছিলাম, তখন খেলাপি ছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা, এখন আড়াই লাখ কোটি টাকা খেলাপী ঋণ। এসব টাকা মানুষের, ফেরত দিতে হবে। আমরা ভেবে চিন্তে কাজ করছি, তবে সব সময় সবকিছু সবার জন্য মঙ্গল নাও হতে পারে।

Tags: