উৎসবের আনন্দে রাত জাগা, ঘুরে বেড়ানো ও অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া অনেকের দৈনন্দিন রুটিন বদলে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ রিল দেখার অভ্যাস। এসব কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও চোখের অস্বস্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা।
বিশেষ করে রাতে বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে একের পর এক রিল দেখলে ঘুমাতে দেরি হয়। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়। অনেকে মনে করেন, পরদিন বেশি সময় ঘুমালেই আগের রাতের ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাত জাগা ও অতিরিক্ত রিল দেখার ৩টি ক্ষতিকর প্রভাব
স্লিপ প্যারালাইসিসের ঝুঁকি
ঘুমের সময় অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর সঙ্গে স্লিপ প্যারালাইসিসের সম্পর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার সময় বা ঘুম ভাঙার মুহূর্তে ব্যক্তি সচেতন থাকলেও সাময়িকভাবে হাত-পা নাড়াতে বা কথা বলতে পারেন না। কখনো অস্বাভাবিক কিছু দেখার বা কারও উপস্থিতি অনুভব করার অভিজ্ঞতাও হতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের সমস্যা
রাত জেগে থাকা, দেরিতে খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক রুটিনে প্রভাব ফেলে। ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয় সময়ে ক্ষুধা লাগা, অতিরিক্ত খাওয়া এবং ঘুম আসতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও চোখের অস্বস্তি
দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথা হতে পারে। পর্দায় মনোযোগ দেওয়ার সময় চোখের পলক ফেলার হারও কমে যায়। এর সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি যুক্ত হলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে মনোযোগের অভাব ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সুস্থ থাকতে যা করবেন
রাত জাগা ও অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।
নিয়মিত ঘুমান: প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যান। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।
ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমান: বিছানায় শুয়ে একের পর এক রিল দেখা এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে পর্দা থেকে বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন।
খাওয়া০-দাওয়ায় নিয়ম মানুন: অতিরিক্ত খাওয়া এবং ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
শরীরকে বিশ্রাম দিন: দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি বা হাঁটাহাঁটির পর বিশ্রাম নিন। ক্লান্ত লাগলে জোর করে রাত জেগে থাকবেন না।
চোখের যত্ন নিন: মোবাইল ব্যবহারের মধ্যে বিরতি নিন। মাঝেমধ্যে দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান এবং চোখের পলক ফেলুন।
ঘুমের সমস্যা, বারবার মাথাব্যথা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে শরীরের প্রয়োজন উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ঘুম, পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস বজায় রাখলে সুস্থ থাকা সহজ হয়।