ফেসবুক পেজে ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ারের সুযোগ সীমিত করছে মেটা। পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো পেজ থেকে মাসে মাত্র দুটি লিংক পোস্ট করা যাচ্ছে। এর বেশি লিংক শেয়ার করতে হলে অর্থ দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে বলা হচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাগুলো জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছে।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রিনভিল শহরের গ্রন্থাগারের ফেসবুক পেজে মাসিক লিংক শেয়ারের সীমা শেষ হওয়ার নোটিফিকেশন আসে। সেখানে জানানো হয়, মাসে দুটি লিংক পোস্টের সুযোগ ব্যবহার করা হয়েছে। আরও লিংক দিতে হলে মাসে অন্তত ৫০ ডলারের ‘মেটা ওয়ান’ সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।
গ্রিনভিলের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ড্যানিয়েল স্টার্কস জানান, নগর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা জানাতে ওয়েবসাইটের লিংক ব্যবহার করে। একই বিধিনিষেধ অন্য বিভাগগুলোর পেজেও আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় কর্মীদের সাধারণ পোস্টে লিংক না দিয়ে কমেন্টে যুক্ত করতে বলেছেন তিনি।
একই সমস্যায় পড়েছে ইন্ডিয়ানাপোলিসের অলাভজনক সংস্থা ইস্ট সাইড প্রজেক্ট। প্রাণীদের খাবার সরবরাহ করা সংস্থাটি ফেসবুক পেজে খাবার সংগ্রহের স্থান, অনুদান দেওয়ার পদ্ধতি ও স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু মাসিক সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় একটি অনুষ্ঠানের প্রচারে ওয়েবসাইটের লিংক দিতে পারেননি সংস্থাটির সহসভাপতি বেথানি ইংলিশ। মাসে ২০টি লিংক শেয়ারের সুযোগ পেতে তাঁকে ১৫০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন নিতে বলা হয়।
সাবস্ক্রিপশনের খরচ কত?
মেটার বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজে লিংক শেয়ারের সুযোগও ভিন্ন। মাসে ১৪ দশমিক ৯৯ ডলারের প্রাথমিক প্যাকেজে ফেসবুকে অতিরিক্ত লিংক শেয়ারের সুবিধা নেই। ৪৯ দশমিক ৯৯ ডলারের প্যাকেজে মাসে আটটি এবং ১৪৯ দশমিক ৯৯ ডলারের প্যাকেজে ২০টি লিংক শেয়ার করা যায়। ৪৯৯ দশমিক ৯৯ ডলারের প্যাকেজে লিংক শেয়ারের নির্দিষ্ট সীমা নেই।
মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফেসবুকে লিংক শেয়ারের সুবিধা সাবস্ক্রিপশনের আওতায় আনা যায় কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের মতামত ও পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে।
তবে সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পেজকে এই পরীক্ষার আওতায় রাখার কথা নয় বলে জানিয়েছে মেটা। গত ২৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, অলাভজনক সংস্থা হিসেবে শনাক্ত হতে হলে ফেসবুক পেজে ‘ননপ্রফিট’ উল্লেখ থাকতে হবে।
এদিকে, বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। কোনো কোনো পেজে পোস্টের বদলে কমেন্টে লিংক শেয়ার করা গেলেও অন্যদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। ফলে তথ্য প্রচারে ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে।