রানা ফার্মের চালান খালাসে রেয়াতি সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 07:10 am
রানা ফার্মের চালান খালাসে রেয়াতি সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চীন থেকে আমদানি করা রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের একটি যন্ত্রপাতির চালান খালাসে শুল্কায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, এইচএস কোড এবং রেয়াতি শুল্কসুবিধা গ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী এলাকার রানা ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড চালানটির আমদানিকারক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেম নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। এর নম্বর সি-১২২৫৮১৬।

নথিতে দেখা যায়, ‘এমসিসি ইয়াংগন’ জাহাজে চীন থেকে আসা চালানটির ঘোষিত মূল্য ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৮২ মার্কিন ডলার। ইনভয়েসে পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছে ‘BNCM for Poultry Farm (Layer House) (Plant)’।

অভিযোগ রয়েছে, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চালানটি এসআরও নম্বর ১৯১-আইন/২০২৫/১৩/কাস্টমসের আওতায় রেয়াতি শুল্কসুবিধায় খালাস করা হয়েছে। তবে নিবন্ধিত হাঁস-মুরগির খামারের উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এসআরও নম্বর ২৪৪-আইন/২০২৬/৭৪/কাস্টমসের শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পণ্যের কারিগরি বিবরণ ও এইচএস কোড যথাযথভাবে যাচাই না করে শুল্কায়ন করা হয়ে থাকলে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে। তবে প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

এ শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ডাইনামিক ফ্রেইট সিস্টেমের প্রতিনিধি তাপস মজুমদার বলেন, ‘আমরা আমদানিকারকের দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিস্তারিত কাস্টমস ও আমদানিকারক বলতে পারবেন।’

বন্দর ব্যবহারকারীরা চালানটির আমদানি নথি, পণ্যের কারিগরি বৈশিষ্ট্য, এইচএস কোড এবং শুল্কায়ন আদেশ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নিরপেক্ষ তদন্তে অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ কত, তা স্পষ্ট হতে পারে।