কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-ওআইসি বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 07:10 am
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-ওআইসি বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা

সংগৃহীত ছবি

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) গৃহীত প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে ভারতবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লি বলেছে, এসব বক্তব্য বিদ্বেষপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট ও অসত্য। এ ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত প্রস্তাবের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ওআইসিকে ব্যবহার করছে। সংস্থাটিকে ভারতবিরোধী প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।

ভারত আবারও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের দাবি, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার ওআইসির নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরে অবকাঠামো, পর্যটন ও যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন হয়েছে। এর সুফল স্থানীয় বাসিন্দারা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছে দেশটি।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও পাল্টা অভিযোগ তুলেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ওই অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এছাড়া সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত।

ওআইসির প্রস্তাবে ইসলামবিদ্বেষের প্রসঙ্গ তোলারও বিরোধিতা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরাতে পাকিস্তান এ ধরনের বক্তব্য সামনে আনছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওআইসির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

পাশাপাশি পাকিস্তানকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেওয়ার এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।