সৌদির নিরাপত্তা সংকটে পাকিস্তান, সামনে দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি
পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির
ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ভিয়েতনাম হয়ে উঠবে?
বিডি-রিপোর্ট
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে পাকিস্তান। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়া এবং পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন নিয়ে নানা খবরের মধ্যে দেশটির জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ছয় দশক আগে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে মিসরের বিপর্যয়ের স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে।
১৯৬৭ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের বলেছিলেন, ইয়েমেনে মাত্র ২০০ সেনা পাঠানোর পর একপর্যায়ে সেখানে সেনাসংখ্যা বাড়িয়ে ৭০ হাজার করতে হয়েছিল। সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে মিসর যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক ও সামরিক বাহিনীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য পাঠিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশটি সফল হয়নি। ইয়েমেনে মিসরের সেই ব্যর্থ সামরিক অভিযান ইতিহাসে ‘মিসরের ভিয়েতনাম’ নামে পরিচিত।
এবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং তেল সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের ওপর সৌদি আরবকে সহায়তা করার কৌশলগত চাপও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব চুক্তির মূল ধারণা হলো, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। ফলে সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান কী ধরনের ভূমিকা নেবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে গিয়ে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এমন সংঘাতে প্রবেশ করলে পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ড, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিরোধ এবং যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আকার ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—রিয়াদকে রক্ষা করতে গিয়ে আসিম মুনির এমন কোনো সামরিক ও রাজনৈতিক ফাঁদে পড়বেন কি না, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। ইয়েমেনের অতীত অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। তবে দুই দেশের পরিস্থিতি এক নয়; পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ভর করবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাখ্যা এবং ইসলামাবাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।