লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ শেষে আবেগঘন বক্তব্যে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা বলেছেন, জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষাদময় দিনগুলোর একটি।
বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি বাকি দুটি গোলে সহায়তা করেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকার জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ।
ম্যাচ শেষে মাঠে দীর্ঘ বক্তব্য দেন মেসি। সেখানে তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি তাঁর জন্য আবেগের এবং একই সঙ্গে কঠিন। দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দলের হয়ে জয়-পরাজয়, সাফল্য-ব্যর্থতার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিদায়ের সময় সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় তাঁদের সমর্থন ও বিশ্বাস তাঁকে কঠিন সময় পার করে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এসেছে একাধিক বড় সাফল্য। ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনালিসিমা জয়ের মতো অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। দেশের হয়ে তিনি ১২৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সফল গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন।
মেসির বিদায় ঘিরে বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে সমর্থকেরা প্রিয় অধিনায়ককে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখেন। ম্যাচের পর সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে ক্লাব ফুটবলে তাঁর পথচলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ২১ বছরের যাত্রা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।