লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে যখন উৎসবের প্রস্তুতি, তখনই ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল আফ্রিকান দলকে প্রতিপক্ষ করে মেসির বিদায়কে ঘিরে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে।
একাত্তরের প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এএফএ ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল আফ্রিকান দলগুলোকে প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলকে নামমাত্র ম্যাচ ফি দিয়ে ম্যাচ আয়োজন থেকে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক আয় নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করা হয়।
এর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সফরকারী দলটি ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণে আপত্তি জানিয়ে মরক্কো বিমানবন্দরে আটকে যায়। পরে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পাঠানো হয় আর্জেন্টিনায়।
এবার মেসির শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ বেনিনও আতিথেয়তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। দীর্ঘ যাত্রার ধকলের মধ্যে বেনিন দলের এক ভিডিও অ্যানালিস্ট অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের থাকার হোটেলে খেলোয়াড়দের জিম করার সুযোগ নেই, একটি পুরো ফ্লোরে গরম পানির ব্যবস্থা নেই এবং সনা বা স্টিম রুমও অকেজো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর ফলে মেসির বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের আগ্রহের এই ম্যাচ থেকে যে বিপুল বাণিজ্যিক আয় হবে, তার সুবিধা শেষ পর্যন্ত কারা পাচ্ছে। তবে এএফএর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে তার নিজেরও অসন্তোষ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে একাত্তর জানিয়েছে, মেসির আশঙ্কা ছিল তার বিদায়কে ঘিরে আবেগকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগিয়ে এএফএ বিপুল অর্থ আয় করতে পারে। শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের অনুরোধে তিনি ম্যাচটিতে মাঠে নামতে সম্মত হন।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০৮তম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে এই বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে।