১৫ অক্টোবরের মধ্যে তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন জমার নির্দেশ এনবিআরের
সংগৃহীত
চলতি মাসের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না। এর আগে চলতি অর্থবছর থেকে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমার বিধান চালু করেছিল সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবার মাসিক রিটার্ন দাখিলের নিয়ম চালুর উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এ নির্দেশনা এলো।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের জারি করা এক আদেশে বলা হয়, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন জমার সুযোগ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট মাসের ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য রিটার্ন জমার সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট মাসের রিটার্ন এখনো জমা দেয়নি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর মাসের রিটার্নও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
এর আগে চলতি অর্থবছর থেকে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমার বিধান চালু করা হয়। তবে এতে মাসভিত্তিক ভ্যাট আদায়ের প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে ভ্যাট আদায় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে জানিয়ে আসছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
এ পরিস্থিতিতে আগের নিয়মে মাসিক ভ্যাট রিটার্ন চালুর উদ্যোগ নেয় এনবিআর। গত সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশোধিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক অধ্যাদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে তিন কর মেয়াদ বা তিন মাস শেষে রিটার্ন জমার জন্য ১৫ দিন সময় পাওয়া যায়। নতুন বিধান কার্যকর হলে প্রতি মাসের কর মেয়াদ শেষে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এদিকে, নতুন অর্থবছর শুরুর প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মাসের রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশ করেনি এনবিআর। সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার ধারণা, বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশে সময় নেওয়া হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে ভ্যাট বিভাগ থেকে। মাসিক রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় জুলাই ও আগস্টে ভ্যাট আদায়ের তথ্য যথাসময়ে পাওয়া যায়নি। রাজস্ব আদায় কমেছে নাকি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে, তা আগামী মাসে রিটার্ন জমার পর আরও স্পষ্ট হবে।