খেলাপি ঋণ কমাতে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 28 Oct 2026 04:10 pm
খেলাপি ঋণ কমাতে তিন মেয়াদি পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

গ্রাফিক্স ছবি

দেশের খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি, দুই থেকে তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি এবং চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপস্থাপিত কার্যপত্রে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশই খেলাপি। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাসে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং এর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকার্স সভায় প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকের জন্য ‘এনপিএল রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি’ সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনও হালনাগাদ করা হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ বা সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির ভিত্তিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতিকেও প্রভিশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণগ্রহীতারা যাতে রিট আবেদন করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করে রাখতে না পারেন, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত অর্থঋণ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতে বর্তমানে ৭৪ হাজার ৬৭৯টি মামলা রয়েছে। প্রয়োজনে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানের এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের প্রয়োজন হলে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যাংকের ওপর বড় ঋণের চাপ কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খেলাপি ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির জন্য আইন করার উদ্যোগও রয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আধুনিক ও দ্রুত করতে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।