প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফর করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে এ সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী কখনোই নাকচ করেননি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সংলাপের মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব।
চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা অনুকূল পরিবেশে ও যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে সফরটি চায়। তবে সফরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শুধু একটি ফোনকলে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আমরা আলোচনা করছি এবং বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।’
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন ফলাফল চায়, যা দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে। বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন নাকি নতুন চুক্তি—এমন প্রশ্নে তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যেটি সবচেয়ে ভালো, সেটিই করা হবে।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন ভারতীয় পক্ষের চূড়ান্ত জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার আহ্বানও জানান হুমায়ুন কবির। একইভাবে বাংলাদেশও তার ভূখণ্ড থেকে ভারতের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের বিদ্যমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কূটনীতিতে সংলাপের দরজা কখনো বন্ধ করা হয় না। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কখনোই ভারত সফরে না বলেননি। কিছু বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে আমরা ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাব এবং আমি আশাবাদী, সফরটি হবে।’