দিল্লিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ!

ধ্রুব রাঠির মুক্তি, পিছু হটছে না 'ককরোচ পার্টি'

BD REPORT
বিডি রিপোর্ট 27 Oct 2026 12:10 am
ধ্রুব রাঠির মুক্তি, পিছু হটছে না 'ককরোচ পার্টি'

সম্পাদিত ছবি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নতুন মোড়! পুলিশি কড়াকড়ি ও আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র শীর্ষ তিন নেতা। তবে নেতাদের মুক্তি মিললেও পিছু হটতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা; বরং 'আরশোলারা কখনও মরে না' স্লোগানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ দখলের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।

মাঝরাতে ধ্রুব রাঠি ও সকালে সিজেপি নেতাদের মুক্তি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। তবে শনিবার গভীর রাতেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিক্ষোভের আগে বিমানবন্দর থেকে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকেও আটক করেছিল পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লি ক্যান্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সিজেপির আইনি প্রধান রত্না সিং ভারতীয় গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেতাদের আটকের পর অজ্ঞাত স্থানে রাখার অভিযোগ তুলেছিল সিজেপি। তবে পুলিশের দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি ছিল সতর্কতামূলক (প্রিভেন্টিভ) আটক। নেতাদের মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি উল্লাস প্রকাশ করে লেখে, "অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। আরশোলারা কখনও মরে না।"

দিল্লিজুড়ে কড়াকড়ি ও ৭ হাজার আটক

বিক্ষোভ দমাতে শহরজুড়ে এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। তবুও সিজেপি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববারও মধ্য দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রেখেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর এলাকা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড এবং অন্তত ৩০টি পয়েন্টে যান চলাচল ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

সিজেপি নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার পর আন্দোলনের দায়িত্ব পাওয়া নেতা অজিনক্য শিন্ডে জানান, "সরকার ভেবেছিল শীর্ষ নেতাদের আটকে রাখলে আমরা ভয় পেয়ে পিছু হটব। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। তারা আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আইসা নেত্রী নেহা বোরাও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘শত শত যন্তর মন্তর গড়ে উঠুক! আগামীকাল দিল্লির আরও একটি অংশ যন্তর মন্তরে পরিণত হবে।’

সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অধিবেশন

এদিকে, বিক্ষোভ ঠেকাতে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত অন্যান্য বিধিনিষেধ থাকলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মেট্রো ও রেল চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।