দিল্লির বিক্ষোভে মোদি সরকার ফেরাচ্ছে ১৯৭৫!

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 09:10 am
দিল্লির বিক্ষোভে মোদি সরকার ফেরাচ্ছে ১৯৭৫!

সংগৃহীত

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা তরুণদের অনেককে আটক করা হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দেশটিতে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরে আসছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় জেন-জি সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তালিকা বাতিল ও ব্যাপক নির্বাচনী সংস্কারের দাবি জানায় সংগঠনটি।

আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী বাস ও ট্রেন থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নামিয়ে আটক করা এবং দূরবর্তী শহরে কয়েকজনকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগও এসেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই আটক করা হয়। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা

দিল্লিতে বর্তমান নিরাপত্তা কড়াকড়ি ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন বিশ্লেষকেরা। ওই সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করে, সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ আরোপ করে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাবন্দী করেছিল।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মোদি সরকার জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্য, ভয়ভীতি দেখিয়ে তরুণদের আন্দোলন থামানো যাবে না।

দিল্লির কনাট প্লেস এলাকায় আন্দোলনকারীদের আটক হতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সন্তোষ কুমার। তাঁর মতে, কয়েকজনকে আটক করলেও আরও মানুষ প্রতিবাদে যোগ দিতে আসছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেত্রী নেহা বোরা সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ছাত্র সংগঠনের এক সমন্বয়ক আরিফকে বৃহস্পতিবার থেকে বাড়িতে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঠেকাতেই পুলিশ এ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাঁকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে।

চাপে মোদি সরকারের ভাবমূর্তি

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক এবং তরুণদের আন্দোলন মোদি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানকে চাপে ফেলেছে। গত জুলাইয়ে ককরোচ আন্দোলনের কারণে দিল্লির প্রধান সড়কগুলো অচল হয়ে পড়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোদির জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, জনদাবির কাছে নতি স্বীকার করেন না—এমন ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী। সে কারণেই এবার আন্দোলনকারীদের দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হওয়া ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর মূল্যায়ন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণও সরকারের পদক্ষেপকে জনমতের প্রতি ভীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দমন-পীড়ন বাড়লে আরও মানুষ প্রতিবাদে নামতে পারেন।