হুমকিতে ব্রিটেনের ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরানো
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমানঘাঁটিতে ‘কিছু হুমকি’ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, একটি হুমকির বিষয়ে জানতে পেরেই বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে হুমকিটি কী ধরনের বা কার কাছ থেকে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘সেখানে কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে প্রলুব্ধ করার চেয়ে তাদের বন্দী করা এবং পরাস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি জানান, বিমানগুলো খুব বেশি দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহভাজন যান নিয়ে পুলিশ তৎপর হওয়ার পর সেখানে একটি ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরানোর পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করছেন ওয়াশিংটনের কয়েকটি সূত্র। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তেহরানও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সামরিক ইউনিট ও সরঞ্জাম অদলবদল করা স্বাভাবিক বিষয়। নিয়মিত মহড়া, পুনঃমোতায়েন কিংবা নতুন-পুরোনো বিমানের অদলবদলের অংশ হিসেবেও সামরিক সরঞ্জাম সরানো হতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবেই বিমানগুলো সরানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে নিরাপদ বলে জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টফ বার্গসের মতে, ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত আকাশপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা কিছুটা কমবে। এতে সামগ্রিক উত্তেজনাও কিছুটা কমতে পারে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনী অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের অনুমতি নিয়ে এ ঘাঁটি থেকে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে উড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।