সাইবার আইনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ, ঝুঁকিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 07:10 am
সাইবার আইনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ, ঝুঁকিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার আইনের সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। সংস্থাটির মতে, আইনের অস্পষ্ট ধারা এবং বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগজনক বিষয় পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির দাবি, প্রস্তাবিত আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্যের’ মতো অস্পষ্ট শব্দকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগাম বিচারিক তদারকি ছাড়া অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ এবং পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে বাধ্য হতে পারে। সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য ও ধারণা আদান-প্রদানের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ আরোপ করতে হলে তা স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। পাশাপাশি এর বৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং বিধিনিষেধ হতে হবে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক। রাজনৈতিক সমালোচনা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সাইবার অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখে—এমন অস্পষ্ট বিধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না বলে মনে করে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংস্থাটি সরকারকে সাইবার আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিচারিক অনুমোদনের ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সাইবার অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সমালোচনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।