মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তীরে ফিরছেন ইলিশের জেলেরা

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 27 Oct 2026 01:10 am
মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তীরে ফিরছেন ইলিশের জেলেরা

সংগৃহীত

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ আহরণে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা ও রাঙ্গাবালীসহ উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরেছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে দেশের জলসীমায় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নৌবাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং প্রকৃত জেলেদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলেদের দাবি, চলতি বছর সাগরে আগের তুলনায় মাছ কম পাওয়া গেছে। কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, অধিকাংশ জেলেই শূন্য হাতে তীরে ফিরছেন। দেশি-বিদেশি ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

জেলে আব্দুর রহিম বলেন, সাগরে এমনিতেই মাছ কম, তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সরকারি আইন মেনে চললেও প্রণোদনা সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না এবং এর পরিমাণও চাহিদার তুলনায় কম। তাই প্রণোদনা বাড়িয়ে সময়মতো দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ট্রলারের মাঝি সোলায়মান বলেন, অনেক জেলে এনজিও ও ব্যাংকের ঋণের পাশাপাশি দাদনের বোঝায় জর্জরিত। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরে সাগরে মাছ কম। যখন কিছুটা মাছ পাওয়া যায়, তখনই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার সুযোগে অন্য দেশের জেলেরা যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরতে না পারে, সে জন্য নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির নেতা আব্দুল জলিল ঘরামি বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান রেখে জেলেরা মধ্যরাতের আগেই তীরে ফিরে আসছেন। ইতোমধ্যে অনেক ট্রলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন আশ্রয়স্থলে নোঙর করেছে।

তিনি বলেন, চলতি বছর ইলিশের আকাল গেছে। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে একের পর এক দুর্যোগের কারণে জেলেরা ঠিকমতো সমুদ্রে যেতে পারেননি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলে ও আড়তদাররা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত মৎস্যজীবীরাই লাভবান হবেন।

তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে কলাপাড়া উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত বা বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলেও জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।