চুয়েটে অবরুদ্ধ নতুন ভিসি, কার্যালয়ে তালা—বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 27 Oct 2026 05:10 am
চুয়েটে অবরুদ্ধ নতুন ভিসি, কার্যালয়ে তালা—বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন

অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল ইসলামকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এখনও অবরুদ্ধ রয়েছেন তিনি। উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবন ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি।

দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে ভবনের মূল ফটকে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম বলেন, শুধু পদে বসলেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের সিদ্ধান্তে আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা চাই, আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো হোক।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থা নিরসন করতে চাই। তাদের দাবিগুলো শুনে যুক্তিসংগত দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত নিয়মিত ক্লাস শুরু করতে শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। আন্দোলনকারীরা নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে নতুন উপাচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল।

এর আগে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ফটকে অবস্থান ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা থেকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে তিন সমিতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, শহর থেকে চুয়েটগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিছিল করেন।