তাজমিন হত্যা

সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে ফেরত দিল ডিবি

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 27 Oct 2026 05:10 am
সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে ফেরত দিল ডিবি

ডিবি সঙ্গে গাড়িতে উঠছে অভিযুক্ত রাজু

কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ফের কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কুমিল্লা ডিবির একটি দল। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিখিত অধিযাচনপত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কুমিল্লায় না নিয়ে কক্সবাজার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনসংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় স্থানীয় লোকজন রাজুকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় হয়। গত ৬ অক্টোবর তাজমিন কক্সবাজারে গিয়ে কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করে। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ ও বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরদিন সকালে তাঁরা হোটেল ছাড়েন এবং রাজু তাজমিনের জন্য কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কেটে দেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

কুমিল্লায় ফেরার পর বাড়ি যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবার করা হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের খোয়া যাওয়া আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, রাজুকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় নেওয়ার জন্য পুলিশ যায়নি; বরং হোটেলে অবস্থানসহ তদন্তের প্রয়োজনে কিছু বিষয় যাচাই করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাজমিনের পরিবার চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজারে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. অহিদুর রহমান জানান, কুমিল্লা পুলিশের অধিযাচন অনুযায়ী রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে ফেরত দেওয়ার পর বিকেলে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। হোটেলে অবস্থানকালে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীর পরিবার কক্সবাজার থানায় পৃথক মামলা করতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের পরিবার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর সঙ্গে হাতঘড়ি নিয়ে বিরোধ ও মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে পৌঁছায়।

রাজুর বিরুদ্ধে তাজমিনকে বাড়ি ছাড়তে প্ররোচিত করা বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তদন্তের বিষয়। তবে এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা এজাহার না থাকায় তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।