ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে 'ভয় পাইছে' বলে তোপের মুখে পলক!

BD REPORT
বিডি রিপোর্ট 29 Oct 2026 11:10 am
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীকে 'ভয় পাইছে' বলে তোপের মুখে পলক!

জুনাইদ আহমেদ পলক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে সাক্ষীর উদ্দেশে 'ভয় পাইছে, ভয় পাইছে' মন্তব্য করে বিচারকের ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ালে ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে দিয়ে কথা কম বলতে নির্দেশ দেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এদিন দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

আদালতে পলক ও প্রসিকিউশনের বাদানুবাদ

শুনানিকালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীর একটি বক্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুললে কাঠগড়া থেকে পলক বলে ওঠেন, "এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। আমরা আপনার কোনো আদেশ শুনতে আসিনি।"

এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামির কোনো বক্তব্য থাকলে তা তার আইনজীবীরা উপস্থাপন করবেন, অনুমতি ছাড়া আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে প্রসিকিউটরের কিছুটা বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলকের উদ্দেশে বলেন, "রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন। কথা বলতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিয়ে বলতে হবে। ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কেউ কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।"

সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইন্টারনেট বন্ধের প্রসঙ্গ

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে সাক্ষী মাহদী আমিন জানান, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই বিটিআরসি কার্যালয়ে পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে মোবাইল ইন্টারনেট (থ্রিজি ও ফোরজি) চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাক্ষী আরও জানান, দেশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল এনটিএমসির নির্দেশনায়।

এই বক্তব্যের একটি অংশ মূল মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় দাবি করে তা বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় প্রসিকিউশন, যাতে সম্মতি দেন সাক্ষীও। আর ঠিক এ সময়ই কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলে ওঠেন, "ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।"

এ মন্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারক পলককে থামিয়ে দিয়ে বলেন, "একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।" পরবর্তীতে অনুমতি নিয়ে পলক যুক্তি দেন যে, প্রসিকিউটর প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন, এখন তা বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে 'হোস্টাইল' ঘোষণা করতে হবে।

জয়-পলকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় অন্তত ৬২ জন নিহতের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি থেকে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলায় পলকের পক্ষে লড়ছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং পলাতক জয়ের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।