সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে আমদানি ব্যয় সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। জ্বালানি আমদানি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার সক্ষমতা বাড়াতে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'সরকার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছিল বিপিসি। এর বিপরীতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।'
বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের ঋণ প্রয়োজন ছিল।
বিপিসির হিসাবে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ সময়ে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করতে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।
রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে জাহাজে করে জ্বালানি পরিবহনে প্রতি ব্যারেলে ৩ থেকে ৪ মার্কিন ডলার ভাড়া দিতে হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বিপিসির মাসিক আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
বিপিসি এর আগে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম সমন্বয় না করায় সংস্থাটির আর্থিক চাপ বেড়েছে।