সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে, বন্ধ হচ্ছে না রিসোর্টগুলো

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 27 Oct 2026 02:10 pm
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে, বন্ধ হচ্ছে না রিসোর্টগুলো

সুন্দরবন এলাকায় রিসোর্ট

সুন্দরবনের পাশে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২৩টি রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে নির্দেশের পরও এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে প্রচার ও পর্যটক আকর্ষণের নানা উদ্যোগ।

রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরিবেশ আইন না মেনে গাছ কাটছে, জলাভূমি ভরাট করছে এবং বনের পরিবেশের ক্ষতি করছে। পর্যটকদের ব্যবহৃত পানিও ফেলা হচ্ছে বনের খালে। এ ছাড়া সুন্দরবনে অনুমতি ছাড়া পর্যটক প্রবেশ, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ফেলার ঘটনাও ঘটছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সুন্দরবনের আশপাশে ২৪টির বেশি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ২৩টি প্রতিষ্ঠানের ১৮টি খুলনায়, দুটি বাগেরহাটে এবং চারটি সাতক্ষীরায় বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে। তবে এই তিন জেলার সংখ্যা যোগ করলে ২৪টি হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ও জেলাভিত্তিক হিসাবের মধ্যে প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর রিসোর্টগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়। অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ জানান, কয়েকবার সতর্ক করার পরও নিয়ম না মানায় বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, রিসোর্টের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। ঢাংমারী খালের আশপাশে প্রায় ১০টি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এলাকাটি ডলফিনের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। সেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল, শব্দ ও বর্জ্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। বনের পাশে রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকদের অতিরিক্ত আনাগোনা বন্যপ্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রাণী ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারে।

তবে রিসোর্ট মালিকদের দাবি, এসব স্থাপনা সুন্দরবনের ভেতরে নয়, বনের বাইরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে নির্মিত। তাঁদের মতে, রিসোর্টগুলো স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তাঁরা রিসোর্ট পরিচালনার জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করেই পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। এ জন্য রিসোর্টের অবস্থান, পর্যটক ধারণক্ষমতা এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।