পানির হিসাব বদলাতে বড় উদ্যোগ সরকারের

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 05:10 am
পানির হিসাব বদলাতে বড় উদ্যোগ সরকারের

সংগৃহীত ছবি

পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নদীতে ব্যারাজের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মাণ করা হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত সাত বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটসংক্রান্ত এক নথিতে বলা হয়েছে, পদ্মা নদীর পানির সংরক্ষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রকল্পটির আওতায় বছরে ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পদ্মার পাঁচটি শাখা ও উপনদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে সুন্দরবনসহ পদ্মা অববাহিকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি বছরে ধান উৎপাদন ২ কোটি ৩৯ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন বাড়বে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার মানুষ এ প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা পাবেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশ।

এদিকে, দেশের নদ-নদী, খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৮০ কিলোমিটার খাল, সেচখাল ও ড্রেনেজ চ্যানেল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও পানি নিষ্কাশন চ্যানেল খননের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারের বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বরনাই নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে।

এছাড়া ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানির মান পর্যবেক্ষণে ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স (ডব্লিউকিউআই) তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড।

দেশের খালগুলো চিহ্নিত করে জিআইএসভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য ‘বাংলাদেশের খাল শনাক্তকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস এবং জিও-ইনফরমেটিকস ডেটাবেজ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮৪ কিলোমিটার নদীপথের নাব্যতা উন্নয়ন এবং ডুবোচর অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের বন্যা সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আরও ২৯২ কিলোমিটার বাঁধ ও বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে।

বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, উজানে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে বাঁধের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার মানোন্নয়নে ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা তিস্তা মহাপরিকল্পনা নামে পরিচিত।