রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির পদত্যাগে জোর, কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 06:10 am
ভিসির পদত্যাগে জোর, কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে কার্যালয়ে ঘেরাও করে একটি কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের দাবি, কাগজটি পদত্যাগপত্র ছিল এবং ভয় দেখিয়ে তাঁকে তাতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উপাচার্য বলেন, ‘রাজশাহী আপামর ছাত্রজনতা’র ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে বের করে দেয়। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।'

বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পেছনে নিজের গেস্ট হাউসের সামনে সংবাদ সম্মেলনে জাওয়াদুল হক বলেন, তাঁকে দেওয়া কাগজটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাতে স্বাক্ষর করেন। তাঁর ধারণা, সেটি ছিল পদত্যাগপত্র। তবে যারা স্বাক্ষর নিয়েছে, তাদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে যায়। তাঁদের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিটের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক লাল্টু ছিলেন।

তবে শরফুজ্জামান শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সঠিক নয়।' তাঁর দাবি, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো জানানোই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল।

উপাচার্য জানান, তাঁর সামনে কাগজ এগিয়ে দিয়ে তাঁকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তাঁর পিএস বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে স্বাক্ষর করা কাগজ নিয়ে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কিছু সময়ের জন্য তাঁর মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুতের সংযোগ নষ্ট এবং রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান জাওয়াদুল হক। দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও চলমান প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উপাচার্যের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিজে নিজে লোক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও এসব সত্য নয়। কার্যালয়ে ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় উপাচার্যের পিএস ও সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইনও তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিনি। আমাকে ও ভিসি স্যারকে জোর করে পদত্যাগ করিয়েছে তারা।’