বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয়, আশ্রয় বাংলাদেশে

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 27 Oct 2026 06:10 am
বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয়, আশ্রয় বাংলাদেশে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশের পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন।

আহত দুজন হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ শালমারা-মাইনকারচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)। চিকিৎসকেরা তাদের শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টারের আঘাত শনাক্ত করেছেন। একজনের শরীরে পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষতও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফ তাদের গুলি করে বাংলাদেশে ফেলে যায়। তবে আহতদের ভাষ্য, তারা সীমান্তবর্তী চরে গরু চরাতে গেলে বিএসএফ তাদের ধরে বাংলাদেশি গরু চোরাচালানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে। পরে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিএসএফ তাদের গুলি করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে যায়।

আহত আব্দুল আলীম বলেন, তারা ভারতের বাসিন্দা এবং গরু চরাতে চরে গিয়েছিলেন। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি গরু চোরাচালানকারী অপবাদ দিয়ে একটি চরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের বাংলাদেশে ফেলে যায়। তিনি দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান ও উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিকের শরীরে অনেকগুলো স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। সেগুলো গুলি নাকি গ্রেনেডের আঘাত, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারা কেন এবং কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সেটিও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা করেছে। তারা গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম রাজ্যের নারায়ণপুর স্থলবন্দরসংলগ্ন এলাকা থেকে দইখাওয়া চরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।

ঘটনার বিষয়ে কুড়িগ্রাম বিজিবি ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।