২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে ৪৩০০ ইউপিতে নির্বাচন

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 28 Oct 2026 05:10 pm
২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে ৪৩০০ ইউপিতে নির্বাচন

সংরক্ষিত ছবি

আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে।

পাঁচ ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ভোট হবে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মানদণ্ড অনুসরণ করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর সহযোগিতাও চাওয়া হবে।

বিশৃঙ্খলা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশিশক্তির ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রার্থিতাও বাতিল করা হতে পারে।

নির্বাচনি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান

সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা কাউকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

অনিয়ম হলে পুনরায় ভোট

ভোটে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা কারসাজির কারণে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে কমিশন। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

এছাড়া নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর এসব কমিটি কাজ করবে।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

Tags: