বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে: যুক্তরাজ্যের মূল্যায়ন

BD REPORT
বিডি-রিপোর্ট 29 Oct 2026 07:10 am
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে: যুক্তরাজ্যের মূল্যায়ন

যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিস। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে রাজনৈতিক সহিংসতাও কমেছে বলে সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। এ সময় তাঁরা সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাধীনতা বেড়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। মতপ্রকাশ ও জনপরিসরে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সুযোগ বেড়েছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাতে পারছে। পাশাপাশি তারা সরকারের সমালোচনাও করতে পারছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনের পর কমেছে রাজনৈতিক সহিংসতা

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা কমেছে।

তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার অনেকগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য

প্রতিবেদনে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক মামলাগুলোর পর্যালোচনা এখনো চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কার নিয়ে পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তাঁরা তুলে ধরেছেন।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও কার্যকারিতা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের বক্তব্য এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।